লিফলেট, ব্যানার ও পোস্টারে বিসমিল্লাহ লেখা কি ইসলামের দৃষ্টিতে সঠিক? অমর্যাদার আশঙ্কা, আলেমদের মতামত ও করণীয় জানুন এই বিস্তারিত বিশ্লেষণে।
বিসমিল্লাহর মর্যাদা ইসলামে:
“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” কেবল একটি বাক্য নয়; এটি কুরআনের আয়াতের অংশ এবং আল্লাহ তায়ালার পবিত্র নামসমূহের সমষ্টি। ইসলামে আল্লাহর নাম ও কুরআনের আয়াতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যেখানে আল্লাহর নাম লেখা হয়, সেখানে পবিত্রতা, সংরক্ষণ ও সম্মান বজায় রাখা অপরিহার্য।
প্রচার সামগ্রী ব্যবহারের বাস্তব চিত্র:
বর্তমান যুগে দাওয়াহ, ব্যবসা বা সামাজিক প্রচারণায় লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়-
a এসব কাগজপত্র নির্দিষ্ট সময় পর খুলে ফেলা হয়
b অনেক সময় বাতাস বা বৃষ্টিতে ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায়
c পথচারীদের পায়ে পদদলিত হয়
d শেষ পর্যন্ত আবর্জনার স্তূপে গিয়ে পড়ে
এই বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
নিয়ত ভালো হলেও সমস্যা কোথায়:
অনেকেই বিসমিল্লাহ লেখেন সওয়াবের নিয়তে বা ইসলামী পরিচয় তুলে ধরার জন্য। কিন্তু ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হলো-
নিয়ত ভালো হলেও যদি ফলাফল গুনাহের দিকে যায়, তাহলে তা পরিত্যাজ্য।
এখানে সমস্যা নিয়তে নয়, সমস্যা সম্ভাব্য পরিণতিতে। কারণ আল্লাহর নাম এমন স্থানে চলে যাচ্ছে, যেখানে তা অসম্মানিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
আলেমদের গ্রহণযোগ্য মতামত:
বিশ্বস্ত আলেম ও ফিকহবিদদের মতে-
a যেখানে সম্মান ও সংরক্ষণ নিশ্চিত নয়, সেখানে আল্লাহর নাম লেখা থেকে বিরত থাকা উত্তম
b লিফলেট বা পোস্টারের মতো অস্থায়ী জিনিসে কুরআনের আয়াত ব্যবহার করা উচিত নয়
c অমর্যাদার আশঙ্কা থাকলে তা সরাসরি গুনাহের পথে নিয়ে যেতে পারে
এটি কোনো নতুন ফতোয়া নয়; বরং দীর্ঘদিনের গ্রহণযোগ্য শরঈ নীতির আলোকে প্রতিষ্ঠিত মত।
তাহলে কি বিসমিল্লাহ লেখা একেবারেই নিষিদ্ধ?
এখানে সূক্ষ্ম একটি পার্থক্য রয়েছে।
যেসব মাধ্যমে-
a দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা হয়
b সম্মান বজায় থাকে
c মাটিতে পড়ার আশঙ্কা নেই
যেমন- কুরআন, ইসলামি বই, দোয়ার কার্ড, শিক্ষা উপকরণ-সেখানে বিসমিল্লাহ লেখা নিঃসন্দেহে সম্মানের কাজ। কিন্তু যেসব মাধ্যমে অবহেলা অনিবার্য-সেখানে বিরত থাকাই তাকওয়ার পরিচয়।
নিরাপদ ও শরঈ বিকল্প কী হতে পারে?
প্রচার সামগ্রীতে বিসমিল্লাহ না লিখে-
a. “আল্লাহর নামে শুরু” (আরবি আয়াত ছাড়া)
b. কেবল দাওয়াহমূলক বা তথ্যভিত্তিক লেখা
c. আল্লাহর নামের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে, অস্থায়ী প্রচার সামগ্রীতে কেবল মূল বক্তব্য উপস্থাপন
এই পদ্ধতিগুলো ইসলামীকভাবেও নিরাপদ এবং বাস্তবতাবান্ধব।
সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজন:
এই বিষয়টি এখন শুধু ধর্মীয় নয়, বরং সামাজিক দায়িত্বের অংশ। আমরা যদি সচেতন না হই, তাহলে অজান্তেই আল্লাহর নামের অমর্যাদার অংশীদার হয়ে যেতে পারি। তাই ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও ডিজাইনার-সবারই এ বিষয়ে দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি।
উপসংহার:
বিসমিল্লাহ লেখা নিজেই ইবাদত, কিন্তু যেখানে তা অসম্মানিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, সেখানে বিরত থাকাই প্রকৃত সম্মান। ইসলাম আমাদের আবেগ নয়, বিবেক ও দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেয়। আল্লাহর নামকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় রাখতে হলে আমাদের প্রচার মাধ্যম ব্যবহারে আরও সচেতন হতে হবে।
FAQ:
১. প্রশ্ন: দাওয়াহর উদ্দেশ্যে লিফলেটে বিসমিল্লাহ লেখা কি জায়েজ?
উত্তর: নিয়ত ভালো হলেও যদি অমর্যাদার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।
২. প্রশ্ন: বিসমিল্লাহ বাদ দিলে কি সওয়াব কমে যায়?
উত্তর: না। বরং আল্লাহর নামকে অসম্মান থেকে বাঁচানো নিজেই বড় সওয়াব।
৩. প্রশ্ন: পোস্টারে কুরআনের আয়াত লেখা কি উচিত?
উত্তর: অস্থায়ী পোস্টারে নয়। সংরক্ষিত ও সম্মানিত স্থানে হলে ভিন্ন কথা।
পোস্ট ট্যাগ:
বিসমিল্লাহ লেখা, লিফলেট বিসমিল্লাহ, পোস্টারে আল্লাহর নাম, ইসলামে বিসমিল্লাহ সম্মান, কুরআনের আয়াত অমর্যাদা, ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি, দাওয়াহ ও শরীয়ত, আল্লাহর নামের মর্যাদা, Islamic poster guideline
