কালিমা তাইয়্যেবার মহত্ব ও গুরুত্ব কী? একটি কালিমা শেয়ার করলে কি শেষ কথা কালিমা হওয়ার আশা করা যায়? কুরআন-হাদিসের আলোকে জানুন সত্য, ফজিলত ও সঠিক ব্যাখ্যা।
কালিমা তাইয়্যেবা কী এবং কেন এটি ইসলামের মূল ভিত্তি?
কালিমা তাইয়্যেবা-“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”-ইসলামের ভিত্তি ও ঈমানের মূল ঘোষণা। এই কালিমার মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহর একত্ব স্বীকার করে, শিরক ও কুফর থেকে মুক্ত হয় এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর রিসালাত মেনে নিয়ে ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশ করে।
এটি কেবল একটি বাক্য নয়; বরং একটি পূর্ণ জীবনদর্শন। এই কালিমা একজন মুসলমানের বিশ্বাস, চিন্তা, আমল ও আখিরাতমুখী জীবনের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে।
এই কালিমার মাধ্যমে-
a) একজন মানুষ ইসলামে প্রবেশ করে
b) আল্লাহর একত্ববাদে দৃঢ় হয়
c) রাসূল ﷺ-এর অনুসরণে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়
d) দুনিয়া ও আখিরাতের সঠিক পথ খুঁজে পায়
কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে কালিমার মহত্ব:
ইসলামে কালিমার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। বহু সহিহ হাদিসে এসেছে-যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে কালিমা তাইয়্যেবা গ্রহণ করে এবং তার দাবি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে, তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে।
তবে ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়-
a) শুধু মুখে উচ্চারণ করাই যথেষ্ট নয়
b) অন্তরের বিশ্বাস অপরিহার্য
c) আমলের মাধ্যমে সেই বিশ্বাসের প্রমাণ দিতে হয়
অতএব, কালিমা হলো ঈমানের সূচনা এবং আমল হলো তার বাস্তব প্রমাণ।
একটি কালিমা শেয়ার করলে কি সত্যিই শেষ কথা কালিমা হবে?
বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কথা ব্যাপকভাবে প্রচলিত-
“আপনি যদি একটি কালিমা শেয়ার করেন, তাহলে আপনার শেষ কথা কালিমা হতে পারে।”
ইসলামি আকিদার আলোকে এই বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করা জরুরি। বাস্তবতা হলো-
a) কুরআন বা সহিহ হাদিসে এমন কোনো নির্দিষ্ট ও নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি উল্লেখ নেই
b) কারও শেষ কথা কী হবে, তা সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল
c) নেক আমলের কারণে আল্লাহ চাইলে কাউকে শেষ মুহূর্তে কালিমা পড়ার তাওফিক দিতে পারেন-এটি আশা করা যায়, তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না
সুতরাং কালিমা শেয়ার করা অবশ্যই একটি ভালো ও সাওয়াবের কাজ, কিন্তু একে কোনো শর্তযুক্ত নিশ্চয়তার সাথে যুক্ত করা ইসলামসম্মত নয়।
কালিমা শেয়ার করার ফজিলত ও দাওয়াতি গুরুত্ব:
কালিমা শেয়ার করা মানে আল্লাহর একত্ব ও রাসূল ﷺ-এর রিসালাতের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এটি ইসলামে দাওয়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সহজ মাধ্যম।
কালিমা শেয়ার করার ফজিলতসমূহ-
a) অন্যকে ঈমানের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া
b) দাওয়াতের কাজে অংশগ্রহণের সাওয়াব পাওয়ার আশা
c) কেউ সেই বার্তা থেকে উপকৃত হলে তার সাওয়াবের অংশ পাওয়ার সম্ভাবনা
d) নিজের ঈমান নবায়ন ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ
রাসূলুল্লাহ ﷺ উত্তম কথা পৌঁছে দেওয়াকে সদকার অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
শেষ কথা হিসেবে কালিমা পাওয়ার জন্য একজন মুমিনের করণীয়:
প্রত্যেক মুমিনের কাম্য হলো-হুসনুল খাতিমা, অর্থাৎ ঈমানের সাথে সুন্দর মৃত্যু। শেষ নিঃশ্বাসে কালিমা নসিব হওয়া আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ।
এর জন্য করণীয়-
a) নিয়মিত কালিমা তাইয়্যেবা পাঠ করা
b) ফরজ ইবাদতে যত্নবান হওয়া
c) গুনাহ ও হারাম থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা
d) আল্লাহর কাছে ঈমানের উপর মৃত্যু ও হুসনুল খাতিমার দোয়া করা
FAQ (প্রশ্ন ও উত্তর):
১. কালিমা তাইয়্যেবা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: আল্লাহর একত্ব ও মুহাম্মদ ﷺ-এর রিসালাতের ঘোষণা—এটাই কালিমা তাইয়্যেবা।
২. কালিমা জানা কেন প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরি?
উত্তর: কারণ কালিমা ছাড়া ইসলামে প্রবেশ ও ঈমান পূর্ণতা পায় না।
৩. শুধু মুখে কালিমা পড়লেই কি মুসলমান হওয়া যায়?
উত্তর: না। মুখে উচ্চারণের পাশাপাশি অন্তরের বিশ্বাস ও আমল জরুরি।
৪. কালিমা শেয়ার করলে কি শেষ কথা কালিমা হওয়া নিশ্চিত?
উত্তর: না। এটি আল্লাহর ইচ্ছার বিষয়, তবে নেক কাজ হিসেবে আশা করা যায়।
৫. কালিমা শেয়ার করা কি দাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর: হ্যাঁ, সঠিক নিয়ত ও শালীন উপস্থাপন হলে এটি দাওয়াতের কাজ।
৬. কালিমা শেয়ার করলে কি গুনাহ মাফ হয়ে যায়?
উত্তর: গুনাহ মাফ হওয়া আল্লাহর রহমতের উপর নির্ভরশীল।
৭. সোশ্যাল মিডিয়ায় কালিমা পোস্ট করা কি বিদআত?
উত্তর: না, যদি এতে ভুল আকিদা বা অতিরঞ্জন না থাকে।
৮. শেষ কথা কালিমা পাওয়ার জন্য কী দোয়া করা উচিত?
উত্তর: আল্লাহর কাছে হুসনুল খাতিমা ও ঈমানের উপর মৃত্যু কামনা করা।
৯. কালিমা কি শুধু মৃত্যুর সময় পড়লেই যথেষ্ট?
উত্তর: না। সারাজীবন কালিমার উপর আমল করা জরুরি।
১০. শিশুদের কালিমা শেখানো কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: এতে ছোটবেলা থেকেই ঈমানি ভিত্তি দৃঢ় হয়।
১১. কালিমা শেয়ার করা কি সদকায়ে জারিয়ার মতো হতে পারে?
উত্তর: কেউ উপকৃত হলে আশা করা যায় এটি সদকায়ে জারিয়ার অংশ হবে।
১২. কালিমা নিয়ে অতিরঞ্জিত কথা বলা কি ঠিক?
উত্তর: না। ইসলাম সত্য ও দলিলভিত্তিক বক্তব্যই সমর্থন করে।
উপসংহার:
কালিমা তাইয়্যেবা ইসলামের প্রাণ ও ঈমানের ভিত্তি। একটি কালিমা শেয়ার করা নিঃসন্দেহে একটি নেক ও দাওয়াতি কাজ। তবে শেষ কথা কী হবে-তা একমাত্র আল্লাহ তাআলার সিদ্ধান্ত। আমাদের কর্তব্য হলো সঠিক আকিদা নিয়ে কালিমার উপর জীবন পরিচালনা করা এবং আল্লাহর কাছে ঈমানের উপর সুন্দর মৃত্যু কামনা করা।
পোস্ট ট্যাগ:
কালিমা তাইয়্যেবা, কালিমার মহত্ব, কালিমা শেয়ার করার ফজিলত, শেষ কথা কালিমা, ইসলামিক দাওয়াত, ঈমান, সহিহ হাদিস, বাংলা ইসলামিক আর্টিকেল
