অতিরিক্ত তৈলাক্ত আচরণ কি আপনার ক্যারিয়ার, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও কর্মক্ষেত্রে সম্মান নষ্ট করছে? বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণে জানুন এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ও সমাধান।
বর্তমান সময়ের কর্মজীবন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক। এখানে শুধু ডিগ্রি বা অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নয়; একজন মানুষের আচরণ, ব্যক্তিত্ব ও নৈতিক দৃঢ়তাও ক্যারিয়ার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো-অনেকেই অজান্তেই এমন একটি অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ছেন, যা সাময়িক সুবিধা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তাদের ক্যারিয়ারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই অভ্যাসটিই পরিচিত তৈলাক্ত আচরণ নামে।
তৈলাক্ত আচরণ কী এবং কেন এটি বিপজ্জনক?
তৈলাক্ত আচরণ বলতে বোঝায়-
নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার ওপর নির্ভর না করে অতিরিক্ত তোষামোদ, কৃত্রিম প্রশংসা, পরিস্থিতিভেদে অবস্থান পরিবর্তন এবং স্বার্থের জন্য আত্মসম্মান বিসর্জন দেওয়া।
এই আচরণ শুরুতে কিছু সুবিধা এনে দিলেও ধীরে ধীরে ব্যক্তি তার স্বাভাবিক বিকাশের পথ থেকে সরে যায়।
স্কিল ডেভেলপমেন্টের প্রতি আগ্রহ কেন কমে যায়?
অতিরিক্ত তোষামোদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না।
এর ফলে-
a) নতুন স্কিল শেখার আগ্রহ কমে যায়
b) নিজেকে আপডেট রাখার মানসিকতা নষ্ট হয়
c) সহজ পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় ফলে দীর্ঘমেয়াদে এটি একজন পেশাজীবীকে পিছিয়ে দেয়।
প্রফেশনালি স্বাভাবিক উন্নতির পথ বন্ধ হয়ে যায়:
স্বাভাবিক ক্যারিয়ার উন্নয়ন ধাপে ধাপে হয়-দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তিতে।
কিন্তু তৈলাক্ত আচরণ এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
এর ফলে-
a) পদোন্নতি হলেও আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় না
b) সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা দুর্বল থাকে
c) সংকট মুহূর্তে টিকে থাকার শক্তি থাকে না
ফলে ক্যারিয়ার ভিতরে ভিতরে দুর্বল হয়ে পড়ে।
স্বভাবে ছেসড়ামি ভাব তৈরি হওয়ার কারণ:
অতিরিক্ত তোষামোদ মানুষকে ধীরে ধীরে নীতিগতভাবে দুর্বল করে তোলে।
এর লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়-
a) নিজস্ব মতামত প্রকাশে দ্বিধা
b) অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে অনীহা
c) পরিস্থিতি অনুযায়ী আচরণ পরিবর্তনের অভ্যাস
এই বিষয়গুলো ব্যক্তিত্বের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের কাছ থেকে সম্মান হারানোর বাস্তবতা:
কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীরা খুব সহজেই বুঝে ফেলেন কে যোগ্যতার ভিত্তিতে এগোচ্ছে আর কে শুধু তোষামোদের আশ্রয় নিচ্ছে।
এর ফলাফল হিসেবে-
a) বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যায়
b) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয় না
c) দলগত সিদ্ধান্তে মতামতের গুরুত্ব হারায়
সময়ের সাথে সাথে এই অবস্থা ক্যারিয়ার স্থবির করে দেয়।
বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও চলমান প্রবণতা:
বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দক্ষতা ও পারফরম্যান্সভিত্তিক মূল্যায়ন জোরদার করা হচ্ছে।
অনেক প্রতিষ্ঠান স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে-
তোষামোদ নয়, বরং স্কিল, সততা ও পেশাগত আচরণই দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
এটি কোনো ধারণা নয়; বরং চলমান বাস্তবতা।
তৈলাক্ত আচরণ থেকে বেরিয়ে আসার কার্যকর উপায়:
a) নিজের দক্ষতার ঘাটতি চিহ্নিত করা
b) তোষামোদের পরিবর্তে গঠনমূলক ফিডব্যাক গ্রহণ করা
c) নৈতিক অবস্থানে দৃঢ় থাকা
d) দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা
এই অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে ব্যক্তিত্ব ও ক্যারিয়ার দুটোকেই শক্তিশালী করে।
উপসংহার:
তৈলাক্ত আচরণ সাময়িকভাবে কিছু সুবিধা এনে দিতে পারে, কিন্তু এটি কখনোই টেকসই ক্যারিয়ার গড়তে পারে না। দীর্ঘমেয়াদে একজন মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায় তার দক্ষতা, সততা ও স্বাভাবিক পেশাগত উন্নয়ন।
আজ নিজেকে একবার প্রশ্ন করুন-
আমি কি যোগ্যতার ভিত্তিতে এগোচ্ছি, নাকি তৈলাক্ত আচরণের ওপর নির্ভর করছি?
FAQ:
১. তৈলাক্ত আচরণ কি সব পেশার জন্য ক্ষতিকর?
হ্যাঁ, যেকোনো পেশায় দীর্ঘমেয়াদে এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
২. সৎ প্রশংসা আর তৈলাক্ত আচরণের পার্থক্য কী?
সৎ প্রশংসা বাস্তব ও সীমিত, আর তৈলাক্ত আচরণ অতিরঞ্জিত ও স্বার্থনির্ভর।
৩. ক্যারিয়ারে সম্মান হারিয়ে গেলে তা কি ফিরে পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, স্কিল উন্নয়ন ও আচরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্ভব।
৪. তৈলাক্ত আচরণ ছাড়া কি পদোন্নতি সম্ভব?
অবশ্যই সম্ভব। দক্ষতা ও পারফরম্যান্সই টেকসই পদোন্নতির মূল ভিত্তি।
৫. এই অভ্যাস পরিবর্তনে কত সময় লাগে?
নিয়মিত আত্মমূল্যায়ন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখলে কয়েক মাসের মধ্যেই পরিবর্তন দেখা যায়।
পোস্ট ট্যাগ:
তৈলাক্ত আচরণ, ক্যারিয়ার ধ্বংস, কর্মক্ষেত্রে সম্মান, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, প্রফেশনাল আচরণ, তোষামোদ ক্ষতি, ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন, কর্পোরেট বাস্তবতা
